বান্দরবানশুক্রবার, ১৪ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ত্রিপক্ষীয় চুক্তি, সিনোফার্মের টিকা উৎপাদিত হবে দেশে

প্রতিবেদক
বার্তা বিভাগ
আগস্ট ১৭, ২০২১ ২:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চীনের প্রতিষ্ঠান সিনোফার্মের করোনার টিকা বাংলাদেশে উৎপাদনের জন্য ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সই করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের ইনসেপ্‌টা ভ্যাকসিন লিমিটেড টিকা তৈরি করবে। গতকাল সোমবার সিনোফার্ম, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ইনসেপ্‌টা ভ্যাকসিন লিমিটেডের মধ্যে এ চুক্তি হয়।

রাজধানীর মহাখালীর বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসে (বিসিপিএস) চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং ও ইনসেপ্‌টা ভ্যাকসিন লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবদুল মুক্তাদির চুক্তিতে সই করেন।

চুক্তির আওতায় চীন থেকে বাল্ক্ক টিকা এনে বাংলাদেশে ভায়ালে ভরা এবং লেবেলিংয়ের কাজ করবে ইনসেপ্‌টা। সরকার তাদের কাছ থেকে সেই টিকা কিনে নেবে। সব ঠিক থাকলে মাস তিনেকের মধ্যে ইনসেপ্‌টা দেশে কভিড টিকার কাজ শুরু করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

মন্ত্রী বলেন, তিন মাসের আগেও হতে পারে, বেশি সময়ও লাগতে পারে। সিনোফার্ম চীন থেকে কাঁচামাল সরবরাহ করবে। দেশে টিকা প্রস্তুত করবে ইনসেপ্‌টা। সরকার এটি কিনে নেবে।

টিকার কাজে ইনসেপ্‌টার সক্ষমতার বিষয়ে প্রশ্ন করলে জাহিদ মালেক বলেন, তাদের অনেক সক্ষমতা। যদি ১০ ডোজের ভায়াল হয়, প্রায় চার কোটি ডোজ প্রতি মাসে বানাতে পারবে। আর যদি ভায়ালে ডোজ কমে যায়, তাহলে সেটার অনুপাতে সংখ্যা কমে যাবে।

সরকার ইনসেপ্‌টার মাধ্যমে কত টিকা কিনবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, যতটুকু আমাদের প্রয়োজন, ততটুকু আমরা অর্ডার দেব। তারা সেটা বানিয়ে ফেলবে।

এভাবে বাল্ক্ক এনে দেশে বোতলজাত করার পর টিকা কিনতে সরকারের কেমন খরচ হবে- সে বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আশা করি, কম দামেই আমরা পাব। আর দেশে উৎপাদন হলে তাড়াতাড়ি ও ঠিক সময়েই পাব।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারিভাবেও আমরা টিকার যৌথ উৎপাদন করব। সে বিষয়ে উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সিনোফার্মের চেয়ারম্যান লিউ জিংজান বলেন, যৌথ উৎপাদন চুক্তির আওতায় প্রথম দিকে প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ করে টিকা পাবে বাংলাদেশ সরকার। আমরা যৌথ সহযোগিতার চুক্তি করছি স্থানীয় ডিসপেন্সিংয়ের জন্য। চুক্তির অধীনে কাজ শুরু হলে ইনসেপ্‌টা প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশকে মহামারি মোকাবিলায় ৫০ লাখ করে টিকা দেবে।

তবে বাংলাদেশেই যাতে পুরোপুরি টিকা উৎপাদন করা যায়, সে বিষয়ে চীনের সহযোগিতা চান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম। তিনি বলেন, প্রযুক্তি ও কাঁচামালের সহযোগিতা পেলে আমরা এখানেই টিকা উৎপাদন করতে পারব। তাহলে আমাদের পাশাপাশি অন্যদের চাহিদাও মেটানো সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চয়তা দিয়েছেন, টিকা সরবরাহে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না। এই চুক্তির মাধ্যমে যৌথ উৎপাদনে গেলে আমরা কম দামে ও সহজে টিকা পাব। ?দেশবাসীকে আমরা বলতে পারি, টিকার জন্য আপনাদের অভাব বোধ করতে হবে না।

অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং দাবি করেন, বাংলাদেশে টিকা সরবরাহ ও যৌথ উৎপাদনে তার দেশের কোনো রাজনৈতিক অভিলাষ কিংবা অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশ নেই। টিকাকে জনগণের সম্পত্তি ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এর অংশ হিসেবেই অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশকেও সহযোগিতা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য সচিব লোকমান হোসেন মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া বিভাগের কাউন্সেলর জি রঙ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ বি এম খুরশীদ আলম, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান ও ইনসেপ্‌টার চেয়ারম্যান আবদুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।

চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাহবুব উজ জামান, চীনের পররাষ্ট্রবিষয়ক এশিয়ান অ্যাফেয়ার্স বিভাগের কনসাল জি রঙ, সিনোফার্মের চেয়ারম্যান লিউ জিংজান বেইজিং থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বাংলাদেশ সিনোফার্মের কাছ থেকে সাড়ে সাত কোটি ডোজ টিকা কিনবে। এর মধ্যে দেড় কোটি ডোজের বিষয়ে চুক্তিও হয়েছে।
সূত্রঃ সমকাল।