বান্দরবানশুক্রবার, ১৪ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নাইক্ষ্যংছড়িতে সেনা-বিজিবি’র সাথে সন্ত্রাসীদের বন্দুকযুদ্ধ

প্রতিবেদক
স্টাফ রিপোর্টার
সেপ্টেম্বর ১, ২০২১ ১১:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তবর্তী বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের গভীর পাহাড়ি এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনীর সাথে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ২ ঘন্টাব্যাপী গুলি বিনিময় হয়েছে।

বুধবার ১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০ টা থেকে গুলি বিনিময় শুরু হয়ে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত চলে। এই গুলি বিনিময়ের ঘটনায় ২ পক্ষেই কয়েকজন আহত হবার তথ্য পাওয়া গেলেও নিরাপত্তা বাহিনীর কেউ আহত হয়েছে কি না এ বিষয়ে সরকারি তরফ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, সন্ত্রাসীরা সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সশস্ত্র ক্যাডার।

এদিকে বুধবার সন্ধ্যায় সেনাবাহিনীর বান্দরবান রিজিয়নের পক্ষ থেকে স্বাক্ষরবিহীন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, গুলি বিনিময়ের ফলে সন্ত্রাসীদের বেশ কয়েকজন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বান্দরবান রিজিয়নের অধিনস্থ নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবি জোনের আওতাধীন ছাগলখাইয়া চাক পাড়ার কাছাকাছি এলাকায় সন্ত্রাসী অবস্থান করছে- গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া এমন খবরের ভিত্তিতে নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবি জোন কমান্ডার লেফ. কর্ণেল শাহ আবদুল আজিজ আহমেদ এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বিজিবির সমন্বয়ে গঠিত ৮টি গ্রুপ বুধবার ভোর ৪ টার দিকে ছাগলখাইয়া এলাকার আশপাশ ঘিরে ফেলে। এসময় সন্ত্রাসীরা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে থাকলে সেনাবাহিনী ও বিজিবি জওয়ানরা পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। এতে সন্ত্রাসীদের বেশ কয়েকজন মারাত্মক আহত হয়।

এই অবস্থায় নিরাপত্তা বাহিনীর ষাড়াশি আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। ওই এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনীর সন্ত্রাসী বিরোধী অভিযান এখনো চলমান রয়েছে।

এদিকে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ১০/১২ দিন আগে ৫০ থেকে ৬০ সদস্যের একটি সশস্ত্র গ্রুপ নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ও বাইশারী ইউনিয়নের রাবার বাগানগুলোতে চড়াও হয়। তারা রাবার বাগান মালিকদের প্রতি একর বাগানের জন্য ৩ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করে।

রাবার বাগানের কয়েকজন শ্রমিক জানান, সন্ত্রাসীদের কাছে অত্যাধুনিক মারনাস্ত্র রয়েছে। জলপাই রঙের পোশাক পড়া তরুণ বয়সী এসব যুবক নিজেদেরকে ‘শান্তিবাহিনীর’ আর্মস ক্যাডারের সদস্য বলে পরিচয় দিচ্ছে। তারা নিজেদের মধ্যে চাকমা ভাষায় কথা বলতে শোনেছেন বলে একজন রাবার শ্রমিক জানিয়েছেন।

সূত্র জানায়, লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালি, তীরের ডেবা এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী, দোছড়ি, আলেক্ষ্যং, বালুখালী এবং ছাগলখাইয়া এলাকায় দিনে রাতে সশস্ত্র অবস্থায় সন্ত্রাসীদের টহল দিতে দেখা গেছে।