বান্দরবানবৃহস্পতিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঈদের দিনে নেপালকে হারিয়ে ঈদের উপহার দিতে সাকিব আল হাসান

প্রতিবেদক
সোহেল রশীদ
জুন ১৫, ২০২৪ ৫:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্রিকেট এক উৎসবের নাম। যে কোনো সাফল্য সারা দেশে বইয়ে দেয় আনন্দের ঢেউ। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিশে যান ক্রিকেট আনন্দে। এবার ক্রিকেট-উৎসবের সঙ্গে মিলে যাওয়ার অপেক্ষায় আরেক উৎসব। ঈদ-উল-আযহার দিন বিশ্বকাপে নেপালের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। হাজার মাইল দূরে ওই ম্যাচ জিতে দেশের মানুষের ঈদ আনন্দ বাড়িয়ে দিতে চান সাকিব আল হাসান।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার পর নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে সুপার এইটের দুয়ারে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। আগামী সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৫টায় গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে নেপালের মুখোমুখি হবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ওই ম্যাচে পরাজয় এড়াতে পারলেই ২০০৭ সালের পর আবার সুপার এইটে নাম লেখাবে তারা।

একই দিন বাংলাদেশে উদযাপিত হবে ঈদ-উল-আযহা। প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার দূরের দেশে সেদিন প্রথম প্রথরে নেপালকে হারিয়ে ঈদ উৎসবে বাড়তি মাত্রা যোগ করার আশা সাকিবের। নেদারল্যান্ডসকে হারানোর পর সংবাদ সম্মেলনে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার বললেন, নেপালকে হারাতেও তারা মুখিয়ে আছেন।

“অবশ্যই নেপালের সঙ্গে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। জিততে পারলে আমরা দ্বিতীয় রাউন্ডে যাব। আমাদের জন্য অনেক বড় একটা অর্জন হবে। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমরা মুখিয়ে আছি সামনে ম্যাচের জন্য।”

“ঈদের দিন, মুসলমান যারা আছি তাদের জন্য আনন্দের একটা দিন। বিশেষ করে বাংলাদেশে সবাই উদযাপন করে। অন্য ধর্মের মানুষরাও আসলে ঈদের দিন আনন্দ করে। তো আশা করব, এরকম ঈদের একটা দিনে তাদের মুখে আরও বেশি হাসি ফোটাতে পারব।”

নেপালকে হারিয়ে ঈদের আনন্দ বাড়ানোর জন্য বড় চাবি থাকবে সাকিবেরই হাতে। শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাটে-বলে বিবর্ণ এই অলরাউন্ডার জ্বলে উঠেছেন ডাচদের বিপক্ষে। চার নম্বরে নেমে খেলেছেন ৪৬ বলে ৬৪ রানের ইনিংস। পরে বোলিংয়ে উইকেট না পেলেও শেষ দিক দারুণ দুটি ওভারে আটকে রেখেছেন নেদারল্যান্ডসের ব্যাটসম্যানদের।

বিশ্বকাপে প্রায় ৮ বছর ও ১৭ ইনিংস পর এবং সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১৯ ইনিংস পর পঞ্চাশের দেখা পেলেন সাকিব। মাঝের সময়ে ব্যাটিং যে খুব খারাপ করেছেন তা নয়। তবে চোখের সমস্যা দেখা দেওয়ার পর চলতি বছর প্রথম ছয় ইনিংসে সাবলীল ব্যাটিং করতে দেখা যায়নি তাকে।

ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ে কিংবা বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্র সিরিজে সাকিবের ব্যাটিংয়ে অস্বস্তি ছিল স্পষ্ট। পরে বিশ্বকাপেও শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শর্ট বলের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করে নিজের উইকেট দিয়ে আসেন তিনি।

ব্যাটিংয়ের খারাপ সময়ের সঙ্গে যোগ হয় বল হাতে তেমন সাফল্য না পাওয়া। চলতি বছর ৮ ইনিংসে সাকিবের উইকেট ৬টি। এর মধ্যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক ম্যাচেই নেন ৪টি। পরের ৭ ম্যাচে তার উইকেট শুধু ২টি। তবে ইকোনমি বেশ ভালো, ৬.৭২।

নেদারল্যান্ডস ম্যাচেও যেমন প্রথম দুই ওভারে ১৯ রান খরচ করলেও শেষ দুই ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোয় বড় অবদান রাখেন সাকিব। ব্যাটে-বলে কৃতিত্ব দেখিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কারটাও জেতেন তিনি।

অথচ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আনরিখ নরকিয়ার বাউন্সারে বাজেভাবে ক্যাচ দেওয়ার পর সাকিবকে নিয়ে শুরু হয় নানান সমালোচনা। ভারতের সাবেক ওপেনার ভিরেন্দার শেবাগ তো কটাক্ষ করে সরাসরি বলেই দেন, এখন অবসর নেওয়া উচিত সাকিবের।

ছবিঃ আইসিসি/গেটি

পরের ম্যাচেই দলকে জেতানোর পর সাকিবের সামনে রাখা হলো সেই প্রসঙ্গ। দীর্ঘ দিন পর রানে ফেরা, ম্যাচ সেরা পারফরম্যান্স কোনো রকমের জবাব দেওয়া কি না, জানতে চাওয়া হলে দলের জন্য অবদান রাখতে পারার তৃপ্তির কথা বলেন তিনি।

“একজন ক্রিকেটার কখনও কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে আসে না। ক্রিকেটারের কাজ হলো, সে যদি ব্যাটসম্যান হয় রান করা, দলের জন্য অবদান রাখা। সে যদি বোলার হয়, তার কাজ হচ্ছে ভালো বোলিং করা। উইকেট পাওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপার থাকে। সে যদি ফিল্ডার হয়, তার কাজ হচ্ছে প্রতিটা রান বাঁচানো, যতগুলো ক্যাচ যায়, ততগুলো ধরা।”

“এখানে আসলে কাউকে উত্তর দেওয়ার কিছু নেই। আমি মনে কই, একজন ক্রিকেটারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো, দলের হয়ে সে কতটা কৃতিত্ব রাখতে পারে। সেটা যখন রাখতে পারে না, স্বাভাবিকভাবেই কথা হবে। আমি মনে করি সেটা খুব বেশি খারাপ কিছুও না।”

অবশ্য শুধু শেবাগ নয়, দেশেও সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে সংবাদ মাধ্যমেও সাকিবের সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে হয়েছে অনেক আলোচনা। চোখের সমস্যার কারণে তার নতুন স্টান্স ও নড়বড়ে হেড পজিশনে হওয়া ব্যাটিংয়ের অস্বস্তির কারণে সাকিবের শেষটাও দেখে ফেলেছিলেন কেউ কেউ।

সেসব আলোচনা আর বাড়তে না দিয়ে ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্সের পর সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন সাকিব।

“আলহামদুলিল্লাহ… আল্লাহ সবসময় আমার প্রতি অনেক দয়াশীল। এরকম পরিস্থিতি যখনই আসে, আল্লাহ ভালো কিছু দিয়ে দেন। তার প্রতি শুকরিয়া যে ভালো কিছু করতে পেরেছি। গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমাদের ২ পয়েন্ট পাওয়া। যেটা আমরা পেয়েছি।”

“যদি দেশ থেকে আসার আগে কেউ চিন্তা করত যে তিন ম্যাচে আমাদের ৪ পয়েন্ট থাকবে, আমরা মনে হয় যে সবাই আমরা খুশি মনেই সেটা নিতাম। কীভাবে জিতেছি সেটা ওতো গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে আপনি দুইটা পয়েন্ট পেয়েছেন, ম্যাচটা জিতেছেন এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।”

সূত্রঃ বিডিনিউজ২৪.কম