স্টাফ রিপোর্ট।
পার্বত্য চট্টগ্রামের নব্য বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) এর প্রধান নাথান বমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।
বুধবার ৭ অক্টোবর চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ থানায় এই মামলা দায়ের করা হয়।
বৃহষ্পতিবার ৮ অক্টোবর দুপুরে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. সুফি উল্লাহ মামলা রুজুর তথ্য নিশ্চিত করেন।
কেএনএফ-এর জন্য ৪০ হাজার সেট বিশেষ ইউনিফর্ম তৈরিতে কোটি টাকার বেশি অর্থায়ন ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে এই মামলা করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ৪০ হাজার সেট চার রঙের ক্যামোফ্লেজ ইউনিফর্ম তৈরি ও সেলাই বাবদ মোট ১ কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা লেনদেন হয়েছে।
মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন: কেএনএফের প্রতিনিধি মং হ্লা সিং মারমা ওরফে মং (৩৮), নিয়াজ হায়দার (৩৯), মো. গোলাম আজম (৪৭), শাহেদুল ইসলাম (২৭), মোহাম্মদ কামরুজ্জামান (৫৮), জামালুল ইসলাম (৪৫), মো. তৌহিদুল ইসলাম (৩৮) এবং মো. মতিউর রহমান (৪৩)।
সিআইডি জানায়, ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ১৮ মে। সেদিন রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একটি দল বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকার মোজাফফর নগর আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে কেএনএফের পোশাক প্রস্তুতের সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হালিশহর, বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা ও একটি গার্মেন্টস কারখানায় অভিযান চালিয়ে মোট ২০ হাজার ৩০০ সেট ক্যামোফ্লেজ ইউনিফর্ম জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় বায়েজিদ বোস্তামী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের হয়েছিল। পরবর্তীতে এই বিশাল পরিমাণ ইউনিফর্ম তৈরির আর্থিক উৎসের সন্ধানে অনুসন্ধানে নামে সিআইডি। তাদের আর্থিক অনুসন্ধানে দেখা যায়, কেএনএফের প্রধান নাথান বমের নির্দেশে মং হ্লা সিং মারমা নিজেকে একটি প্রতিষ্ঠানের সহকারী কমার্শিয়াল ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে চক্রটির অন্য আসামিদের সহায়তায় ইউনিফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেন।
সিআইডির অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘ওয়েল কম্পোজিট নিট লিমিটেড’ নামক প্রতিষ্ঠানে দু’টি পারচেজ অর্ডারের মাধ্যমে ফ্যাব্রিক তৈরির জন্য ৯০ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৪০ হাজার সেট ইউনিফর্মের প্যান্ট ও শার্ট সেলাইয়ের জন্য রিংভো অ্যাপারেলস, এনএন ফ্যাশন ও নূর ফ্যাশনকে ৭২ লাখ টাকা দেওয়া হয়। তদন্তকালে ব্যাংক হিসাব, চেক ও নগদে মোট ১ কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা লেনদেনের সুস্পষ্ট প্রমাণ পায় সিআইডি।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এই আর্থিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা উন্মোচনে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।













