নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন এবং আসন্ন দুর্গাপূজার উৎসব ভাতা আটকে গেছে। নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের নির্দেশের পর সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখা এ বেতন বিল পরিশোধ কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে। এর ফলে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১ হাজার ১০০ শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত প্রতি মাসের ৩০ বা ৩১ তারিখের মধ্যে চুয়েটের ৩৬৭ জন শিক্ষক, ২০৮ জন কর্মকর্তা ও ৫১২ জন কর্মচারীর বেতন পরিশোধ করা হয়। তবে গত ২৯ সেপ্টেম্বর সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখা ব্যবস্থাপককে ই-মেইলের মাধ্যমে বেতন-ভাতা ছাড় না করার নির্দেশ দেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম।
পরবর্তীতে ৫ অক্টোবর ব্যাংক ব্যবস্থাপক উপাচার্যকে জানান যে, প্রতি মাসের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পট্রোলার ও উপ-কম্পট্রোলারের স্বাক্ষরযুক্ত বেতন বিল ব্যাংকে পৌঁছেছে। এর জবাবে উপাচার্য চুয়েট আইন, ২০০৩-এর ১৩(৭) ধারা উল্লেখ করে বলেন, তার ‘সুস্পষ্ট পূর্বানুমোদন’ ছাড়া ব্যাংকে বেতন বিল পাঠানো আইনত অবৈধ। তিনি সতর্ক করেন, উপাচার্যের অনুমোদনহীন কোনো আর্থিক লেনদেনের ফলে উদ্ভূত আইনি জটিলতা বা অনিয়মের দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নেবে না।
সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বেতন শিট প্রস্তুত থাকলেও উপাচার্যের চিঠি ও ই-মেইলের কারণে অর্থ ছাড় করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও আইনি মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে দুর্গাপূজার ঠিক আগে বেতন ও উৎসব ভাতা আটকে যাওয়ায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। চুয়েট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাম্মদ ইকরাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুসারে বেতন পরিশোধে উপাচার্যের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয় না; কম্পট্রোলার ও উপ-কম্পট্রোলারের স্বাক্ষরের ভিত্তিতেই ব্যাংক অর্থ ছাড় করে। তিনি অভিযোগ করেন, উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে সংহতি জানানোর কারণেই শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বেতন আটকে রাখা হয়েছে।
একই অভিযোগ তুলে চুয়েট শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির বলেন, অতীতে কখনো এভাবে বেতন আটকে দেওয়ার নজির নেই। উপাচার্যের হস্তক্ষেপে সাধারণ শিক্ষক-কর্মচারীরা এখন আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
তবে বেতন স্থগিত রাখার বিষয়টি স্বীকার করে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানান, তিনি অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য কম্পট্রোলারসহ সংশ্লিষ্টদের ডেকেছিলেন, কিন্তু তারা উপস্থিত হননি। উপাচার্যের দাবি, “এত দিন উপাচার্যের অনুমোদন ছাড়া যেভাবে বেতন ছাড় করা হতো, তা আইনসিদ্ধ ছিল না। নিয়মানুযায়ী উপাচার্যের অনুমোদন বাধ্যতামূলক।”
উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেয় সরকার। এই নিয়োগ বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা টানা আন্দোলন শুরু করেন। পরবর্তীতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে কর্মবিরতি পালন শুরু করায় গত ১৫ দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টির সকল শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ অচল রয়েছে।
ছবিঃ সমকাল।










