বান্দরবান ০৯:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেরে বাংলা নগরে সরে যাবে সচিবালয়

  • আপডেট টাইম : ১১:৫০:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ বার

রাজধানী ঢাকার অনেকটা এক প্রান্ত এবং ঘিঞ্জি এলাকা থেকে অপেক্ষাকৃত সুপরিসর এলাকায় সচিবালয় সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ আবারো শুরু হয়েছে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর থেকেই একটি নতুন ও অত্যাধুনিক মানের সচিবালয় প্রতিষ্ঠার চিন্তা-ভাবনা শুরু হয়।

অবশেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর-আগারগাঁও-চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী মিলনায়তন এবং পুরনো বাণিজ্যমেলার জায়গায় নতুন সচিবালয় নির্মাণের বিষয়টি নীতিগত ভাবে গ্রহন করেছে সরকার।

সরকারি পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, নতুন ও আধুনিক সচিবালয় নির্মাণ সম্পন্ন হলে বর্তমানে আবদুল গণি রোডে অবস্থিত সচিবালয় ভবনে ঢাকা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার অফিসসহ আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

সরকারি সুত্রে জানা গেছে, ৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের নীতি নির্ধারন ফোরামের এক সভায় সচিবালয় সরানোর সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় মার্কিন স্থপতি লুই আই কানের করা নকশায় নতুন সচিবালয় নির্মাণে প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

আরো বিস্তারিত জানার জন্য দৈনিক কালবেলার অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত সংবাদটি তুলে ধরা হলো:

কালবেলা লিখেছে- ইতোমধ্যে নতুন সচিবালয়ের তিনটি নকশা তৈরি করেছে স্থাপত্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে একটি নকশা চূড়ান্ত করে প্রকল্প প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদেই এ প্রকল্পে দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে চায় সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গত বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় শেরেবাংলা নগরে নতুন সচিবালয় নির্মাণের তিনটি নকশা উপস্থাপন করে স্থাপত্য অধিদপ্তর। সেখান থেকে একটি নকশা চূড়ান্ত করা হয়। ওই নকশার ভিত্তিতে প্রকল্প তৈরি করতে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আবদুল গনি রোড থেকে শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় সরে গেলে বর্তমান সচিবালয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) অফিস, পুলিশ সুপার (এসপি) অফিসসহ পুরান ঢাকায় যেসব সরকারি কার্যালয় রয়েছে, সেগুলোকে স্থানান্তর করা হতে পারে বলেও জানা গেছে।

বৈঠকে উপস্থিত স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি আসিফুর রহমান ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের বিষয়ে বৈঠকে তিনটি আলাদা নকশা উপস্থাপন করা হয়। সেখান থেকে একটি নকশা চূড়ান্ত করার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। এ নকশার ভিত্তিতে প্রকল্প তৈরি করা হবে। নকশাগুলো জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকেও উপস্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লাগতে পারে। সেখানে সড়কের প্রশস্ততা ও কী পরিমাণ যানবাহন চলাচল করে, সেসব বিষয়েও জরিপ করতে হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই কানের স্থাপত্যশৈলী অনুসরণ করে নকশা তৈরি করা হয়েছে। এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে সংসদ ভবনের মতো কোনো ফটক না থাকে।

এদিকে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত করতে গত বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা কমিশনকে চিঠি দিয়েছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। আগামী সপ্তাহে পরিকল্পনা কমিশনে এ প্রকল্প নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পের কাজ শুরু করে সরকারের মেয়াদে দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে চায় সরকার।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও কয়েকবার সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০১৫ সালে এজন্য ২ হাজার ২০৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ হয়। তখন ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানের উত্তর দিকে এবং বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম পাশে, যেখানে প্রতি বছর বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে ৩২ একর জমিতে নতুন সচিবালয় নির্মাণের কথা ছিল। জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই কানের মূল পরিকল্পনা অনুসরণ করে এ স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। নকশা অনুযায়ী, ১৪তলা ভিতের ওপর নয়তলাবিশিষ্ট চারটি মূল ভবন নির্মাণের কথা ছিল।

সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের স্থপতি লুই আই কানের করা জাতীয় সংসদ ভবনসহ শেরেবাংলা নগরের মূল নকশা দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তবে পরবর্তী সময়ে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা থেকে সরে আসে সরকার। বিদ্যমান সচিবালয়ের ভেতরেই একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি সচিবালয়ের পশ্চিম পাশে পরিবহন পুল ও জিপিও এলাকায় নতুন সচিবালয় তৈরির পরিকল্পনাও করা হয়েছিল।

পরে অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে সচিবালয় স্থানান্তর নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। নতুন বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সচিবালয়ের ভেতরে ২১ তলা একটি ভবন নির্মাণে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প নেওয়া হয়।

গত ২৬ এপ্রিল একনেক সভায় প্রকল্পটি উত্থাপন করা হলে অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। ওই সভায় সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করতে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও স্থাপত্য অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এরপর গত পাঁচ মাসে সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। পর্যালোচনা শেষে গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। স্থাপত্য অধিদপ্তরের তিনটি দল আলাদাভাবে তিনটি নকশা তুলে ধরে। সেখান থেকে একটি নকশা চূড়ান্ত করে প্রকল্প প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Anik Islam

আলোচিত