সিএইচটি পোস্ট রিপোর্ট:
কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে শনিবার সংগঠিত অগ্নিকান্ডে অন্তত: ১০ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটেছে।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
শনিবার ১৭ অক্টোবর ভোরে সংঘটিত এই অগ্নিকান্ডে কাঠ-বাঁশের উপকরণে নির্মাণ করা রিসোর্টটি পুড়ে প্রায় ছাই হয়ে গেছে। একই সাথে দগ্ধ হয়েছে অবকাশ কাটাতে আসা ১০টি তাজা প্রাণ। অতিথিতে টইটম্বুর থাকা এই অবকাশ কেন্দ্র এখন লাশ পোড়া গন্ধে অসর্তকতার সাক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এ ঘটনায় কয়েকজন প্রাণ নিয়ে বেরিয়ে আসতে পারলেও জীবন রক্ষায় তাদের আশ্রয় নিতে হয়েছে হাসপাতালের বিছানায়।
এই অগ্নিকান্ডের প্রকৃত কারণ কি- তা এখনো জানা যায় নি। তবে বড় ধরনের কোন বিপদ ঘটলে সেখানে অবস্থানকারীদের নিরাপদে বেরিয়ে আসার (Safe Exit) নিশ্চিত কোন ব্যবস্থা বা তাদের উদ্ধারে প্রশিক্ষিত কোন কর্মী যে ছিল না- তা বুঝতে কারো কষ্ট হবার কথা নয়।
টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ আগুনের পর মালিক নিয়াজ মোর্শেদ ও তানভীর লাপাত্তা হয়ে আছেন।
বিভিন্ন সুত্র নিশ্চিত করেছে, রিসোর্টটির মুল মালিক নিয়াজ মোর্শেদ। তবে তানভীরও এর অন্যতম স্বত্বাধিকারী। অগ্নিকান্ডের এই ঘটনার পর তাদের দু’জনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে পুলিশ টুপটুপ রিসোর্টের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, শনিবার বেলা ৩টায় রিসোর্ট এলাকা থেকে তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
তাকে জিজ্ঞাসা করলে প্রকৃত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
এ বিষয়ে বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডট কম এর কক্সবাজার প্রতিনিধির প্রতিবেদন:
কক্সবাজারের ইনানীতে ‘টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্ট’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে পৌঁছেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, নিহতদের মধ্যে একটি পরিবারেরই ছয় সদস্য থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) এ এম এম সাজিদুর রহমান জানান, ওই পরিবারের মোট নয়জন সদস্য একসঙ্গে সেখানে ছুটি কাটাতে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে তিনজন সুস্থ অবস্থায় বের হয়ে আসতে পারলেও বাকি ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত দেহাবশেষগুলোর পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
নিখোঁজ থাকা ছয়জনের মধ্যে রয়েছেন—ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও শিশু ফায়িজান আহম্মেদ (৫)।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত নয়জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন—মান্নান (৩২), ফাহমিদা (৩২), মাসুদ (৩০), তার স্ত্রী মেহেরুন্নেছা (৩০), ডা. শিহাব উদ্দিন সাদি (৩১), ডা. নাফিজা নাওয়ার খান (২৯), আশিক (২৮), আইরিন ও ইমা। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের শরীর প্রায় ৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে; বর্তমানে তাদের চিকিৎসা চলছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। বাঁশ ও কাঠের তিনতলা পুরো স্থাপনাটি দ্রুত আগুনের শিখায় পুরোপুরি পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আ. মান্নান জানান, রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সমন্বয়ে ৪–৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্রঃ বিডিনিউজ২৪ডটকম।













