নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে উদ্ভূত নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। মঙ্গলবার পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের সৌদি আরবগামী ও সৌদি হয়ে ট্রানজিট মোট ৬২টি ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন শত শত প্রবাসী কর্মী ও তাদের স্বজনরা।
ভুক্তভোগীদের বড় অংশই সৌদি আরবে দ্রুত কর্মস্থলে ফেরার অপেক্ষায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসেছিলেন। তবে বিমানবন্দরে পৌঁছে আকস্মিক ফ্লাইট বাতিলের খবর জানতে পেরে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েন। যাত্রীদের অভিযোগ, আগে থেকে খুদে বার্তা বা ফোনকলে কোনো তথ্য না দেওয়ায় দূরদূরান্ত থেকে এসে তাদের চরম আর্থিক ও মানসিক দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
বিমানবন্দর সূত্রের তথ্যমতে, বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে রয়েছে—
-
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস: ৯টি
-
রিয়াদ এয়ার: ৭টি
-
সৌদিয়া: ৫টি
-
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস: ২টি
এছাড়া বিভিন্ন ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে বাতিল হয়েছে— ইন্ডিগোর ১৬টি, এমিরেটসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি, সালাম এয়ারের ৩টি এবং ইজিপ্টএয়ারের ১টি ফ্লাইট।
এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের যেকোনো বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীদের পূর্ণ মানবিক ও লজিস্টিক সহায়তা দিতে সংশ্লিষ্ট সব এয়ারলাইনসকে কড়া নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, বর্তমান নিরাপত্তা বাস্তবতায় সৌদিগামী সরাসরি ও ট্রানজিট পরিচালনাকারী এয়ারলাইনসগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব বা শিডিউল পরিবর্তনের খবর এসএমএস, ফোনকল, ই-মেইল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় অবিলম্বে যাত্রীদের জানাতে হবে। পাশাপাশি ফ্রি রি-বুকিং, টিকিটের অর্থ ফেরত ও পরিবর্তিত সূচির স্বচ্ছ তথ্য দিতে হবে। ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণের ঝুঁকিতে থাকা যাত্রীদের ক্ষেত্রে ঢাকার সৌদি দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ে সহায়তা করতে হবে এয়ারলাইনসগুলোকে।
এছাড়া বিমানবন্দরে অবস্থানরত যাত্রীদের জন্য বসার স্থান, খাবার, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং বয়োবৃদ্ধ, নারী, শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতি অগ্রাধিকারমূলক নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমন্বয়ের স্বার্থে প্রতিটি এয়ারলাইনসকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিয়োগের নির্দেশ দিয়ে প্রশাসন স্পষ্ট করেছে— কোনো অবস্থাতেই কোনো যাত্রীকে অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখা যাবে না।















