দেশের সবচেয়ে সাড়া জাগানো পর্যটন ডেস্টিনেশন সাজেকের উপর শকুন ভর করেছে।
আঞ্চলিক রাজনীতির দ্বন্দ্বে রবিবার ১১ অক্টোবর থেকে বন্ধ হয়ে গেল এই প্রাকৃতিক সুষমার পর্যটন কেন্দ্রটি।
এর আগে আঞ্চলিক রাজনীতির সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ সমর্থিত একটি অংশ রবিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ ডাকে। এমন পরিস্থিতিতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সাময়িকভাবে সাজেকে পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেয়।
রবিবার ১১ অক্টোবর ইস্যু করা রাঙামাটির জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফী সাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে আগামী মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর বিকেল ৫ টার মধ্যে পর্যটকদের সাজেক ছেড়ে নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে অবরোধকারীরা তাদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ সোম ও মঙ্গলবার স্থগিত করেছে। তবে এই স্থগিত কর্মসুচি পর্যটক ও পর্যটন ব্যবসা সংশ্লিষ্টদের নিরাপদে সাজেক ত্যাগের সুযোগ করে দেয়ার জন্য কিনা- তা জানা যায়নি।
খাগড়াছড়ির বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমিন উল্লাহ জানান, সাজেকের অবস্থান রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত হলেও সেখানে যাওয়ার প্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থা খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে দীঘিনালা উপজেলা হয়ে। এ কারণে সাজেকে যেকোন ঘটনার প্রভাব রাঙামাটির চেয়ে খাগড়াছড়িতে বেশি পড়ে।
তিনি জানান, সাজেক পর্যটন এলাকায় ছোট বড় ১৫৭টি রিসোর্ট আছে। এছাড়া রিসোর্ট খাতে কয়েক’শ কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সুত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি – পিসিজেএসএস এর একটি সংঘবদ্ধ সশস্ত্র হামলায় ইউপিডিএফ পক্ষের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হবার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের যুদ্ধ প্রস্তুতির পরিপ্রেক্ষিতেই সাজেকে এমন অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
আটকা পড়া পর্যটকরা ফিরেছেন
অবরোধের কারণে সাজেকে এবং সাজেক যাওয়ার পথে গঙ্গারাম বাজারে ৮৫০জন পর্যটক নিয়ে কয়েকটি গাড়ি আটকা পড়ে।
দায়িত্বশীল একটি সুত্র জানায়, সেনাবাহিনীর অনুরোধে ইউপিডিএফ অবরোধ শিথিল করলে গঙ্গারাম বাজারে এবং সাজেক প্রান্তে আটকা পড়া পর্যটকরা নিরাপদে ফিরতে পেরেছেন।














