বান্দরবান ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২১ মাসে ৪ জেলা প্রশাসক

  • আপডেট টাইম : ১১:৩৮:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ বার

সিএইচটি পোস্ট রিপোর্ট।

গত ২১ মাসে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের জেলা প্রশাসক হিসেবে একে একে ৪ জন জেলা প্রশাসক দেখছেন বান্দরবানবাসী।

সবশেষ বৃহষ্পতিবার ৮ অক্টোবর দায়িত্ব গ্রহনের মাত্র ৬ মাসের মাথায় সরিয়ে দেয়া হয় বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সানিউল ফেরদৌসকে। তার শূণ্য পদে বদলি করা হয় সেতু কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত পরিচালক নাজনীন সুলতানাকে।

এর আগে জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেয়া শামীম আরা রিনির মেয়াদও স্থায়ী ছিল মাত্র ১৪ মাস। এই ১৪ মাসে তিনি ড. মুহম্মদ ইউনূস এর নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তীকালীন সরকার এবং তারেক জিয়ার নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের অধীনে কাজ করার সুযোগ পেয়ে যান। এই মেয়াদের মধ্যেই তাকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করতে হয়েছে।

বান্দরবান জেলা প্রশাসনের তথ্য বাতায়নের রেকর্ড অনুযায়ী শামীম আরা রিনির আগে জেলা প্রশাসক পদে ছিলেন শাহ মুজাহিদ উদ্দিন।

আওয়ামীলীগ সরকারের অধীনে থেকে তাকেও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার কঠিন দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। পাশাপাশি জুলাই-আগস্ট বিপ্লব এবং ড. ইউনূস এর অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রথম ৫ মাসের ঘটনাবহুল সময়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে শাহ মুজাহিদকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রাক্তন জেলা প্রশাসক বলেন, “এই চারজন জেলা প্রশাসককে কাজ করতে হয়েছে ৩টি সরকারের অধীনে। এটিও একটি রেকর্ড।”

জনপ্রশাসনের একটু সুত্র জানায়, সাধারণত: জেলা প্রশাসক পদে একজন কর্মকর্তাকে দু থেকে আড়াই বছর পর্যন্ত রাখা হয়। কখনো কখনো স্বাভাবিক কারণেও এই নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটে থাকে।

বান্দরবান জেলা প্রশাসনের তথ্য বাতায়ন অনুযায়ী, ১৯৮১ সালে স্বতন্ত্র জেলা হিসেবে বান্দরবানের যাত্রা শুরু। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ফারুক আহমদকে ১৯৮১ সালের ১৬ জুন এই নবগঠিত জেলার প্রথম জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি এই পদে ছিলেন সাড়ে ৩ বছরের বেশি।

দ্বিতীয় জেলা প্রশাসক আবদুল লতিফও ছিলেন ৪০ মাস। পঞ্চম জেলা প্রশাসক ছিলেন প্রায় ৪৩ মাস। আতিকুল ইসলাম চৌধুরী ছিলেন ৩ বছর।

অন্যদিকে বিষ্ণুপদ সাহা বান্দরবানের জেলা প্রশাসক পদে ছিলেন ৪ মাস। এরপর উচ্চতর পড়াশুনার জন্য তিনি কানাডায় পাড়ি জমান।

জেলা প্রশাসনের সাবেক কর্মচারী আবদুল মান্নান বলেন, বান্দরবানে সবচেয়ে কম সময় দায়িত্বে ছিলেন বিষ্ণুপদ স্যার।। মেয়াদ মাত্র ৪ মাসের হলেও দক্ষতার কারণে তিনি বেশ জনপ্রিয় জেলা প্রশাসক ছিলেন।

তিনি বলেন, তবে কম সময় দায়িত্ব পালন শেষে তার বিদায় নেয়ার পিছনে কোন নেতিবাচক কারণ ছিল না। উচ্চতর শিক্ষার জন্যই তিনি কানাডায় গিয়েছেন।

বান্দরবান জেলা প্রশাসনের রেকর্ড বলছে, কম সময় দায়িত্ব পালনকারীদের অন্যতম মওদুদ এ কে কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদে ছিলেন সাড়ে ৭ মাস। ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময় তিনি হঠাৎ করেই জেলা প্রশাসক হয়ে আসেন। হঠাৎ করেই বদলি হয়ে চলে যান।

বান্দরবানে জেলা প্রশাসক হিসেবে কম সময় দায়িত্ব পালনকারীদের মধ্যে আরেকজন হচ্ছেন আসলাম হোসেন চৌধুরী। তিনি মাত্র ৫ মাস দায়িত্ব পালন করেন। তবে তার ক্ষেত্রেও কোন নেতিবাচক কারণ ছিল না। বান্দরবান থেকে তাকে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বদলি করা হয়।

আসলাম চৌধুরী বলেন, মর্যাদার দিক থেকে কুষ্টিয়া অনেক এগিয়ে। তাই এই বদলিকে পুরস্কার হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

সবশেষ যে দু’টি বদলির ঘটনা ঘটেছে- সে দু’টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অনেকটা স্বাভাবিক বদলির মত শাহ মুজাহিদ উদ্দিনকে সচিবালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বান্দরবানের জেলা প্রশাসক পদে পাঠানো হয় শামীম আরা রিনিকে।
স্থানীয় ও জেলা প্রশাসন সুত্রগুলোর মতে তিনি দক্ষতার সাথে সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করার পর নতুন সরকার এসেই তাকে সরিয়ে দেয়। বান্দরবানে তার মেয়াদ ছিল ১৪ মাস।
তার পর একই পরম্পরায় জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়ে সানিউল ফেরদৌস সময় পেয়েছেন মাত্র ৬ মাস ৬ দিন।
এ বিষয়ে সানিউল ফেরদৌস বা শামীম আরা রিনির কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
তবে শাহ মুজাহিদ উদ্দিন বলেন, “সাধারণত: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশব্যাপী বড় ধরনের বদলি ও নতুন পদায়ন হয়। এটি যেকোন সরকারের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আমি এতে নেতিবাচক কিছু দেখছি না।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

বান্দরবান প্রেসক্লাব: ২৭ অক্টোবর ভোট

শারদীয়া দুর্গোৎসব শুরু