বান্দরবানশুক্রবার, ১৪ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লকডাউন পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন পোশাক শিল্প মালিকদের বিকল্প ভাবনা

প্রতিবেদক
স্টাফ রিপোর্টার
জুলাই ২৭, ২০২১ ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

করোনাভাইরাস মহামারীর দেড় বছর পেরোতে চললেও বিধি-নিষেধের কোনো পর্যায়ে কারখানা বন্ধ রাখতে হয়নি। কিন্তু এবার সংক্রমণের ভয়াবহতম পরিস্থিতির কারণে কারখানা বন্ধ রাখতে হওয়ায় ভরা মৌসুমে রপ্তানির পণ্য যথাসময়ে পাঠাতে পারা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তৈরি পোশাক শিল্প মালিকরা।

তারা বলছেন, গত বছরের শুরু থেকে চলা মহামারীর কারণে বৈশ্বিক চাহিদা কমায় ক্রয় আদেশের দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছিল দেশের রপ্তানিমুখী প্রধান খাত। সংক্রমণ পরিস্থিতি যদি আরও খারাপ হয় এবং ৫ অগাস্টের পরও কারখানা বন্ধ রাখতে হয়, তাহলে তারা বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন।

সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে তৈরি পোশাক কারখানার কর্মীদের গণটিকাদানের পাশাপাশি শেষ পর্যায়ে থাকা ক্রয় আদেশের কাজগুলো সারতে সীমিত সংখ্যক শ্রমিক দিয়ে কারখানা খোলার প্রস্তাব রেখেছেন মালিকরা।

তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহ সভাপতি শহিদুল আজিম সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, জুন, জুলাই ও অগাস্ট মাস হচ্ছে পোশাক রপ্তানির ‘পিক টাইম’। সারা বছরের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ রপ্তানি হয় এই সময়ে।

“পশ্চিমের দেশগুলোতে ক্রিসমাস ও উইন্টার সিজনের অর্ডারগুলো এখন শিপমেন্টের পর্যায়ে রয়েছে। তাই এই পরিস্থিতিতে পণ্য দিতে না পারলে তারা বিলম্বে এই পণ্যগুলো নিয়ে বিক্রি করতে পারবে না।”

যথাসময়ে জাহাজে পণ্য পাঠাতে না পারলে পরে কার্গো বিমানে পাঠাতে পরিবহন ব্যয় ৩/৪ গুণ বেড়ে যাওয়ার কথাও বলেন তিনি।

“এসব নিয়ে আমরা ঝামেলার শঙ্কায় আছি। বেতন দিতে হবে, ব্যাংক ঋণ দিতে হবে ইত্যাদি।”

মহামারীর মধ্যে ঢাকার একটি পোশাক কারখানার প্রবেশপথে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিচ্ছেন কর্মীরা। ফাইল ছবি: মাহমুদ জামান অভিমহামারীর মধ্যে ঢাকার একটি পোশাক কারখানার প্রবেশপথে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিচ্ছেন কর্মীরা। ফাইল ছবি: মাহমুদ জামান অভি
২০২০ সালের মার্চে প্রথম দফায় লকডাউন ঘোষণার সময়ও পোশাক কারখানাগুলো শতভাগ বন্ধ করতে হয়নি। এবার পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ ধারণ করায় ৫ অগাস্ট পর্যন্ত ১৪ দিনের যে লকডাউন চলছে, তাতে সব কারখানাও এর আওতায় রাখা হয়েছে।

ঈদের আগে কারখানা খোলার দেন দরবার চালালেও এখন পরিস্থিতি দেখে অনেক শিল্প মালিক কারখানা খুলতে এখনই চান না।

ঈদের পর কোভিড-১৯ মহামারীতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। সোমবার রেকর্ড সংখ্যক ১৫ হাজার ১৯২ জনের দেহে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আর আক্রান্তদের মধ্যে একদিনে সর্বাধিক ২৪৭ জনের প্রাণ গেছে।

বিজিএমইএ সহসভাপতি আজিম বলেন, “যেভাবে ইনফেকশন রেট বাড়ছে, এখন কারখানা খোলার বিষয়ে কিচ্ছু করার নেই। আমরা ভাবছিলাম, সংক্রমণ কমে আসবে। এখন উল্টো আরও বাড়ছে। সব ফ্যাক্টরি বন্ধ, আমরা সরকারের সিদ্ধান্ত মেনেই চলব।”

তার ভাষ্য, মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর আগে পোশাক খাত ভালো রকমে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করলেও এখন আর সেই অবস্থায় থাকছে না। “মহামারীর আগে ৩৪ বিলিয়ন রপ্তানি হয়েছিল। পরে সেটা ৬ বিলিয়ন কমে গেল। এরই মধ্যে আমরা ৩ বিলিয়ন ডলার রিকভারি করলাম। ভাবছিলাম আরও বাড়বে। কিন্তু এখন এই পরিস্থিতিতে সেটা ভাবা যাচ্ছে না।”

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যেও সদ্য সমাপ্ত ২০২০-২০২১ অর্থবছরের রপ্তানি আয়ে আগের চেয়ে ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের অধিকাংশ আসে পোশাক রপ্তানি থেকে। ফাইল ছবিবাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের অধিকাংশ আসে পোশাক রপ্তানি থেকে। ফাইল ছবি
গত ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থবছরে মোট ৩ হাজার ৮৭৫ কোটি ৮৩ লাখ ডলারের (৩৮ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন) পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। মোট রপ্তানি আয়ের ৮১ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে।

ঈদের আগে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে পোশাক শিল্প খাতকে লকডাউনের আওতামুক্ত রাখার সুপারিশ করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। তবে বর্তমান পরিস্থিতি দেখে সোমবারও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

এই পরিস্থিতিতে একাধিক রপ্তানিকারক বললেন, কারখানাগুলোর সাপ্লাই চেইনে এমন অনেক অর্ডারও রয়েছে যেগুলোর প্রায় ৯০ শতাশ কাজ হয়ে গেছে; শুধু ফিনিশিং বা কার্টনিং বা প্যাকেজিং করলেই শিপমেন্ট দেওয়া সম্ভব। লকডাউন দীর্ঘায়িত হলে স্বল্প সংখ্যক শ্রমিক দিয়ে এই কাজগুলো সম্পূর্ণ করার কথা ভাবতে হবে।

বিজিএমএইর সিনিয়র সহসভাপতি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের পোশাক ব্যবসায়ী সৈয়দ নজরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা সরকারের কাছে বলেছি, যেসব অর্ডারের কাজ প্রায় চূড়ান্ত সেগুলো শেষ করার জন্য একেবারেই ক্ষুদ্র পরিসরে ৫০/৬০ জন মানুষ দিয়ে কাজগুলো রপ্তানি উপযোগী করার ব্যবস্থা করা হোক। আমরা এটা নিয়ে গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করছি। আশা করি, একটা কিছু হবে।”

এবিষয়ে পুলিশ প্রশাসনসহ সরকারের অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে বলে জানান বিজিএমইএ সহ-সভাপতি আজিম।
সূত্রঃ বিডিনিউজ২৪.কম।