বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকা:
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জমিতে ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে সমন্বিত ও আধুনিক এই প্রশাসনিক কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৫তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।
মন্ত্রিসভার বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিদ্যমান সচিবালয়ে প্রায় ১৮ লাখ ৭৬ হাজার বর্গফুট অফিস স্পেস রয়েছে, যা বর্তমান প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য অপ্রতুল। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বাড়তি চাহিদা এবং সচিবালয় চত্বরের বাইরে থাকা বিভাগগুলোর স্থানসংকুলানের জন্য অবিলম্বে আরও ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি অফিস স্পেস প্রয়োজন। এই সংকট সমাধানে একনেকের সিদ্ধান্তের আলোকে লুই আই কানের মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ করে স্থাপত্য অধিদপ্তর নতুন সচিবালয়ের ধারণাগত স্থাপত্য নকশা তৈরি করেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তাবিত নতুন সচিবালয়ে যেসব সুবিধা থাকছে:
-
অফিস স্পেস: প্রতিটি ভবনে তিনটি বেজমেন্টসহ মোট প্রায় ৩৩ লাখ ১৬ হাজার বর্গফুট অফিস স্পেস তৈরি হবে।
-
পার্কিং সুবিধা: মোট ৩ হাজার ৮০০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে, যার মধ্যে ২০০টি হবে ভূ-উপরিস্থ।
-
অন্যান্য নাগরিক সুযোগ: চত্বরে নির্মিত হবে একটি মসজিদ, ৩৫০ আসনবিশিষ্ট দুটি মাল্টিপারপাস হল, ক্যাফেটেরিয়া ও একটি পূর্ণাঙ্গ ডাকঘর।
-
পরিবেশ সংরক্ষণ: প্রকল্পের মোট ভূমির প্রায় ৩০ শতাংশ এলাকা জলাধার ও সবুজায়নের জন্য সংরক্ষিত রাখা হবে।
এ ছাড়া রবিবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করার প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। পাশাপাশি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ অধ্যাদেশের খসড়া এবং বিপজ্জনক রাসায়নিক ও কীটনাশকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসংক্রান্ত ‘রটারডাম কনভেনশন’-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবেও সায় দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
















