সিএইচটি পোস্ট রিপোর্ট:
দীর্ঘদিনের যানজট এড়াতে সরকার ও জাইকার অর্থায়নে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া অংশে বাইপাস সড়ক নির্মাণ হতে যাচ্ছে।
অন্যদিকে আরেক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট কেরানিরহাটে নির্মাণ করা হবে ফ্লাইওভার সড়ক।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ লক্ষ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
এর মধ্যে প্রায় ৬ দশমিক ৮ কিলোমিটার বাইপাস অংশ নির্মাণ, চকরিয়া অংশ ছাড়াও মহাসড়কের আরও চারটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বাইপাস, চার লেন সড়ক ও ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) সহযোগিতা দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, জাইকার অধীনে ২০২২ সালের মাঠপর্যায়ের সমীক্ষার ভিত্তিতে প্রকল্পটি নেয়া হয়।
সুত্রটি জানায়, বর্তমানে প্রকল্পটির বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। তবে এখনও ভূমি অধিগ্রহণ শুরু হয়নি।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চকরিয়া অংশে মহাসড়কের দুইপাশে বাজার, ফুটপাত ও সড়কের জায়গায় গড়ে ওঠা দোকানপাট এবং অনিয়ন্ত্রিত ধীরগতির যানবাহনের কারণে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হয়। এতে দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
চকরিয়ায় বাইপাস নির্মাণ হলে মহাসড়কের ওপর যানবাহনের চাপ কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রস্তাবিত নকশানুযায়ী, পাঁচটি এলাকায় মোট ২৪ দশমিক ১ কিলোমিটার সড়ক ও উড়ালসড়ক নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে চকরিয়ায় হবে ৬ দশমিক ৮ কিলোমিটার, যা প্রকল্পের আওতাভুক্ত পাঁচ এলাকার মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ। চকরিয়ায় বাইপাস নির্মাণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে ছয় লেনে উন্নীত করার সুযোগ রেখে চার লেনের সড়ক করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া স্থানীয় ও ধীরগতির যানবাহনের জন্য সড়কের দুই পাশে পৃথক সার্ভিস রোড রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে দূরপাল্লার যানবাহনকে স্থানীয় যানবাহনের সঙ্গে একই সড়কে চলাচল করতে হবে না।
চকরিয়ার মাতামুহুরী নদীর ওপর ইতোমধ্যে ছয় লেনের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এটি প্রশস্ত সড়কে যান চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি হয়ে আছে।
প্রকল্পের আওতায় পটিয়ায় ৫ দশমিক ৪ কিলোমিটার, দোহাজারীতে ৩ দশমিক ৩ কিলোমিটার, সাতকানিয়ার কেরানীহাটে ৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার এবং লোহাগাড়ার আমিরাবাদে ৫ দশমিক ১ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী পটিয়ায় বাইপাস, দোহাজারী ও আমিরাবাদে চার লেন এবং কেরানীহাটে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পের উপপরিচালক নাসরিন আরা শাহীন সংবাদ মাধ্যমকে জানান, প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৬ দশমিক ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৭০৪ দশমিক ৭২ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সহায়তা থেকে ৫ লাখ ৭০ হাজার ৯১১ দশমিক ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে প্রকল্পটির বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে।
জাইকার সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক। নির্মাণাধীন মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে এ মহাসড়কে পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ আরও বাড়তে পারে। এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ যানজটপূর্ণ এলাকাগুলো উন্নয়নের মাধ্যমে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়ীর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।















