বান্দরবান ০২:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
চকরিয়ায় বাইপাস, কেরানিরহাটে হবে ফ্লাইওভার প্রবারণা পূর্ণিমা: সাঙ্গু নদীতে রথ ভাসানো ২৭ অক্টোবর সব সার কারখানা চালু করে আমদানি ব্যয় সাশ্রয়ের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে: বিসিআইসি চেয়ারম্যান সাজেক ভ্যালী আবার বন্ধ। পর্যটক ফেরার পথে সশস্ত্র বাধাঃ নিরাপত্তাবাহিনীর সাথে গুলি বিনিময় মাহা ওয়াগ্যােয়াই পোয়ে উপলক্ষে বান্দরবানে সপ্তাহব্যাপী আয়োজন বেজে উঠছে বিদায়ের সুর কেএসআই-এর নতুন পরিচালক চথুইফ্রু মহা অষ্টমীতে মন্ডপে মন্ডপে ভক্তরা দেবে অঞ্জলি ঝুঁকির কারণে তিন্দু যাওয়ার বিকল্প সড়ক সাময়িক বন্ধ করে দিয়েছে থানচি উপজেলা প্রশাসন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে ন্যস্ত বিভাগের দায়িত্ব বন্টনঃ চেয়ারম্যান নিলেন জনস্বাস্থ্য কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্ট: নিহত ১০: কাঠ- বাঁশের কাঠামো পুড়ে ছাই নারী ধর্ষণের অভিযোগে বান্দরবানে রিসোর্ট মালিক ও এনসিপি নেতা কারাগারে পাহাড়ের বড় সমস্যা সুপেয় পানি: পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী সাজেক সড়কের অবরোধ ২১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত লামা থেকে নিখোঁজ ৩ কিশোরীকে চট্টগ্রামের খুলশী থেকে উদ্ধার ১৫ অক্টোবর বান্দরবান আসছেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল থানচি রুটে বাস চলাচল শুরু হয়েছে সাজেক ভ্যালী ফলোআপ: ১৫ অক্টোবর থেকে আবারো লাগাতার অবরোধ গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাইলেন নবাগত জেলা প্রশাসক পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীর বান্দরবান সফর সাজেক ভ্যালী: নিস্তব্ধ এক জনপদ ২১ জানুয়ারি থেকে ইউপি নির্বাচন শুরু রূপপুরে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার কাজ সম্পন্ন: নজরদারিতে ‘ডিজিটাল টুইন’ প্রযুক্তি ৬২ ফ্লাইট বাতিল: শাহজালাল বিমান বন্দরে চরম যাত্রী ভোগান্তি জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব নিলেন নাজনীন সুলতানা চাঁদাবাজদের হুমকিতে থানচি সড়কে বাস চলাচল বন্ধ বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহে কানাডার আগ্রহ: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেরে বাংলা নগরে সরে যাবে সচিবালয় সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা, নিরাপদে ফিরেছে ৮৫০ পর্যটক ৭ নভেম্বর সরকারি ছুটি সংসদীয় দলের জরুরি সভা ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী বান্দরবান প্রেসক্লাব: ২৭ অক্টোবর ভোট এক ফ্রেমে ইউরোপের ৯ রাজা: আসন্ন মহাযুদ্ধের নীরব পূর্বাভাস শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তরে নীতিগত অনুমোদন: নির্মিত হবে ১৪টি ১২ তলা ভবন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষা সংকটে ফ্রান্সে তীব্র সহিংসতা: ১,২০০ গ্রেপ্তার

এক ফ্রেমে ইউরোপের ৯ রাজা: আসন্ন মহাযুদ্ধের নীরব পূর্বাভাস

  • আপডেট টাইম : ০১:৪৯:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ০ বার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইউরোপের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু তখন রাজতন্ত্র। কোনো আনুষ্ঠানিক সম্মেলন নয়, বরং ব্রিটেনের রাজা সপ্তম এডওয়ার্ডের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উপলক্ষে লন্ডনের উইন্ডসর ক্যাসেলে সমবেত হয়েছিলেন ইউরোপের প্রভাবশালী রাজন্যবর্গ। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে ক্যামেরাবন্দি হয় ইতিহাসের অন্যতম দুর্লভ ও আলোচিত এক আলোকচিত্র—যেখানে একসঙ্গে পোজ দিয়েছিলেন ইউরোপের নয়জন ক্ষমতাসীন সার্বভৌম রাজা।

ইতিহাসের নির্মম পরিহাস, ক্যামেরার সামনে সামরিক পোশাকে দাঁড়িয়ে থাকা এই নিকটাত্মীয় রাজারা মাত্র চার বছর পর ১৯১৪ সালে অবতীর্ণ হন বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত—প্রথম বিশ্বযুদ্ধে।

রক্তের বন্ধন ও ‘ইউরোপের নানী’র বৈবাহিক কূটনীতি

এক ফ্রেমে বন্দি নয়জন রাজার পারস্পরিক সম্পর্ক নিছক কূটনৈতিক শিষ্টাচারের ছিল না; তাঁদের প্রায় প্রত্যেকেই ছিলেন রক্তসম্পর্কের ভাই, ভাগ্নে, মামা কিংবা বৈবাহিক সূত্রের নিকটাত্মীয়। ব্রিটিশ রানি ভিক্টোরিয়া (‘ইউরোপের নানী’) এবং ডেনমার্কের রাজা নবম ক্রিশ্চিয়ানের সুদূরপ্রসারী পারিবারিক কূটনীতির সুবাদে গোটা ইউরোপের রাজপরিবারগুলো এক সুবিশাল আত্মীয়তার জালে আবদ্ধ ছিল।

ছবির রাজন্যবর্গ: এক নজরে পরিচয় ও ঐতিহাসিক পরিণতি

অবস্থান রাজা ও দেশ পারিবারিক পরিচয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব
দাঁড়িয়ে (বাম)

রাজা সপ্তম হাকান

 

(নরওয়ে)

ডেনমার্কের রাজপরিবারে জন্ম; সপ্তম এডওয়ার্ডের জামাতা ও রানি মডের স্বামী।
দাঁড়িয়ে

জার ফার্দিনান্দ

 

(বুলগেরিয়া)

স্যাক্সে-কোবার্গ-গোথা বংশের সদস্য; ১৯০৮ সালে অটোমানদের থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে জারের উপাধি নেন।
দাঁড়িয়ে

রাজা দ্বিতীয় ম্যানুয়েল

 

(পর্তুগাল)

ব্রাগাঞ্জা বংশের শেষ রাজা। ছবিটি তোলার মাত্র ৫ মাস পর (অক্টোবর ১৯১০) বিপ্লবের মুখে রাজতন্ত্র হারিয়ে নির্বাসনে যান।
দাঁড়িয়ে (মাঝে)

কাইজার দ্বিতীয় উইলহেম

 

(জার্মানি)

জার্মানির শেষ সম্রাট; রানি ভিক্টোরিয়ার জ্যেষ্ঠ নাতি ও পঞ্চম জর্জের খালাতো ভাই। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর সিংহাসন ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
দাঁড়িয়ে

রাজা প্রথম জর্জ

 

(গ্রিস)

ডেনমার্কের নবম ক্রিশ্চিয়ানের পুত্র; যুক্তরাজ্যের রানি আলেকজান্দ্রার ভাই এবং পঞ্চম জর্জের মামা। ১৯১৩ সালে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন।
দাঁড়িয়ে (ডান)

রাজা প্রথম অ্যালবার্ট

 

(বেলজিয়াম)

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির আগ্রাসনের মুখে নিজের দেশকে বীরত্বের সাথে নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বজুড়ে মর্যাদা পান।
বসে (বাম)

রাজা ত্রয়োদশ আলফোনসো

 

(স্পেন)

জন্ম থেকেই স্পেনের রাজা; রানি ভিক্টোরিয়ার নাতনি ভিক্টোরিয়া ইউজিনির স্বামী। ১৯৩১ সালে দ্বিতীয় স্পেনীয় প্রজাতন্ত্র ঘোষণার পর দেশ ছাড়েন।
বসে (মাঝে)

রাজা পঞ্চম জর্জ

 

(যুক্তরাজ্য)

তৎকালীন যুক্তরাজ্যের নতুন রাজা; যাঁর পিতার শোকানুষ্ঠানে এই অনন্য মিলনমেলা ঘটেছিল। তিনি উইন্ডসর রাজবংশের পত্তন করেন।
বসে (ডান)

রাজা অষ্টম ফ্রেডেরিক

 

(ডেনমার্ক)

ডেনমার্কের রাজা; ব্রিটিশ রানি আলেকজান্দ্রা ও গ্রিসের রাজা প্রথম জর্জের ভাই।

পারিবারিক কলহ থেকে বৈশ্বিক রক্তপাত

ইতিহাসবিদদের অনেকেই এই আলোকচিত্রকে অভিহিত করেন “The Last Royal Gathering of Europe” বা ইউরোপের শেষ রাজকীয় মিলনমেলা হিসেবে।

১৯১০ সালের এই ছবিটি যখন তোলা হয়, তখন ইউরোপ আপাতদৃষ্টিতে শান্ত ও আভিজাত্যের শীর্ষে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে সামরিক চুক্তি, সাম্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতা এবং জাতীয়তাবাদের আগুন জ্বলছিল। কাইজার উইলহেম, রাজা পঞ্চম জর্জ এবং তৎকালীন রুশ জার দ্বিতীয় নিকোলাস (যিনি সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন)—এই তিন চাচাতো-খালাতো ভাইয়ের ব্যক্তিগত ও সাম্রাজ্যিক টানাপোড়েন মাত্র চার বছরের মাথায় রূপ নেয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধে।

যুদ্ধের দাবানলে জার্মানি, পর্তুগাল, স্পেন ও বুলগেরিয়ার মতো বহু দেশের প্রাচীন রাজতন্ত্র চিরতরে ধূলিসাৎ হয়ে যায়। উইন্ডসর প্রাসাদের সেই উজ্জ্বল কক্ষে তোলা ছবিটি তাই কেবল রাজকীয় জাঁকজমকের স্মারক নয়, বরং একটি বিদায়ী যুগের করুণ প্রতিচ্ছবি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information