আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পানামায় ৭.৭ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর দুই শতাধিক আফটারশক অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের আঘাতে দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে শত শত ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর না মিললেও অন্তত ২৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৯০০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো। তিনি ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা স্বাভাবিক রাখতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতুগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের নির্দেশ দিয়েছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে সোমবার (১২ অক্টোবর) দেশব্যাপী সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান স্থগিত রাখা হয়।
পানামা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক নেস্তর লুকে জানিয়েছেন, মূল ভূমিকম্পের পর ২০০টির বেশি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে এবং কম্পন এখনও অনুভূত হচ্ছে। তবে কম্পনগুলোর তীব্রতা ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে এবং দুটি ঝাঁকুনির মধ্যকার সময়ের ব্যবধান বাড়ছে। এদিকে পানামা খাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, ভূমিকম্প সত্ত্বেও খালের নিয়মিত নৌচলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
জরুরি অবস্থা জারির ফলে দেশটির অর্থনীতি মন্ত্রণালয় কোনো প্রকার আর্থিক সংকট তৈরি না করেই তাৎক্ষণিক ত্রাণ কার্যক্রমে ১০ কোটি (১০০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি ৫০ লাখ ডলার আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি উদ্ধার অভিযান ও অবকাঠামো ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে ২০ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন পানামায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেভিন মারিনো ক্যাব্রেরা।















